ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা ও আলোচনা। নারী-পুরুষ উভয় ক্রিকেটেই দুই দলের লড়াই ঘিরে থাকে আলাদা উন্মাদনা। তবে নারী এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে এবার চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে পাকিস্তান। নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহে অলআউট হয়ে ৭ উইকেটে হেরেছে তারা।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০০তম ম্যাচ। মাইলফলকের এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৮.১ ওভারে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। জবাবে ৮.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান তুলে ৬৮ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ভারত।
পাকিস্তানের ইনিংসে শুরুটা অবশ্য খারাপ ছিল না। শাওয়াল জুলফিকার ও মুনিবা আলী প্রথম উইকেটে ২৭ রান যোগ করেন। জুলফিকার করেন ১৪ এবং মুনিবা ১৩ রান।
তবে মুনিবাকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন শাফালি ভার্মা। এরপরই শুরু হয় পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস। ষষ্ঠ ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন শ্রী চরণী। গুল ফেরোজাকে শূন্য রানে ফেরানোর পর জুলফিকারকেও সাজঘরে পাঠান তিনি। তখন পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৯ রান।
এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। অষ্টম ওভারে ৩২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় তারা। শ্রী চরণী, প্রেমা রাওয়াত ও দীপ্তি শর্মার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা আর দাঁড়াতে পারেননি। ১৩তম ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৫ রান।
শেষ পর্যন্ত ১৮.১ ওভারে মাত্র ৫৫ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। ভারতের হয়ে শ্রী চরণী ও প্রেমা রাওয়াত তিনটি করে উইকেট নেন। চার ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন চরণী। রাওয়াত ৯ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। দীপ্তি শর্মা ৫ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট।
নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০১২ সালের নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে ৬৩ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান।
অন্যদিকে মাত্র ৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে ভারত। পাকিস্তানের ফাতিমা সানা ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান। তবে লক্ষ্য ছিল এতটাই ছোট যে ভারতকে বড় কোনো বিপদে পড়তে হয়নি।
৮.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ভারত। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ১৮ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের ফলে নারী এশিয়া কাপে নিজেদের শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রেখেছে ভারত। তিন ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৬ এবং এরই মধ্যে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে দলটি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনো টিকে আছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হংকংয়ের মুখোমুখি হবে তারা। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ওই ম্যাচে জয় প্রয়োজন পাকিস্তানের।
টি-টোয়েন্টিতে এর আগে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ছিল ৫৬ রান। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই সংগ্রহে অলআউট হয়েছিল তারা। এবার ৫৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে নিজেদের সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেল পাকিস্তানের মেয়েরা।
এ ছাড়া ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০, ২০১২ সালের এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে ৬৩, ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬৫ এবং ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭২ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান।
ভারতের বিপক্ষে আরও কম রানে অলআউট হওয়ার নজির রয়েছে। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার মেয়েরা মাত্র ২৭ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। থাইল্যান্ড ৩৭ এবং বাংলাদেশ পৃথক দুই ম্যাচে ৫১ ও ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল ভারতের বিপক্ষে। এরপরই ৫৫ রান নিয়ে অবস্থান করছে পাকিস্তান।
নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে কম দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডও রয়েছে আরও নিচে। বাংলাদেশের বিপক্ষে মালদ্বীপ মাত্র ৬ রানে অলআউট হয়েছিল এবং ২৪৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল। একই সংগ্রহে রুয়ান্ডার বিপক্ষে অলআউট হয়েছিল মালির মেয়েরাও। আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টিতে ২০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।