Home আজকের মিল্লাত কামাল হোসেনকে স্বাধীনতা পদক না দেওয়ায় ‘আক্ষেপ’ রেহমান সোবহানের

কামাল হোসেনকে স্বাধীনতা পদক না দেওয়ায় ‘আক্ষেপ’ রেহমান সোবহানের

A+A-
Reset

প্রবীণ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে স্বাধীনতা পুরস্কার না দেওয়ায় ‘আক্ষেপ’ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। কামাল হোসেনের রাজনৈতিক ভূমিকা ও বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে তার অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশের ইতিহাসটা এভাবে চলে।’

শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রেহমান সোবহান এসব কথা বলেন। ড. কামাল হোসেনকে সংবর্ধনা এবং গণফোরামের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কামাল হোসেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বর্তমানে দলটির ইমেরিটাস সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

রেহমান সোবহান বলেন, ‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় থেকেই ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক জীবনের শুরু। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আইনজীবী হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে কথা হয়েছে, কামালকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া উচিত ছিল কি না। বিগত সরকার সংবিধানের যে ড্রাফটসম্যান ছিলেন, অর্থাৎ যিনি হাতে লিখে সংবিধানের খসড়া তৈরি করেছিলেন, তাকে স্বাধীনতা পদক দিয়েছে। কিন্তু সংবিধানের মেইন অথর ছিলেন যিনি, তাকে কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত এভাবেই দেশের ইতিহাস চলে।’

রেহমান সোবহান বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাও কামাল হোসেনের রাজনৈতিক বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

অনুষ্ঠানে গণফোরামের পক্ষ থেকে দলটির ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানানো হয়।

৮৮ বছর বয়সী কামাল হোসেন দেশের অন্যতম প্রবীণ আইনজীবী। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত আইনি পরামর্শক ও সালিসকারক হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে। পেট্রোলিয়াম নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি একাধিক দেশের সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন কামাল হোসেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে ১৯৯২ সালে তার নেতৃত্বে গণফোরাম প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনের পর ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। পরে ২০২৪ সালে গণফোরামের নতুন কমিটিতে তাকে ইমেরিটাস সভাপতি করা হয়।

অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ বলা হলেও বিগত সময়ে জনগণই ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত ও উপেক্ষিত হয়েছে।’

গণফোরাম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই দলটির লক্ষ্য। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস, সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কামাল হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। ভবিষ্যতে সরকার এই অশুভ শক্তিকে দমন করতে ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে।’

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মঈন খান, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বক্তব্য দেন।

 

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা