যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কার মধ্যে ইরানি রিয়ালের মানে রেকর্ড পতন হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) তেহরানের মুক্তবাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য ২০ লাখ রিয়াল, অর্থাৎ ২ লাখ তোমান ছাড়িয়ে গেছে।
সপ্তাহের শুরুতে এক ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের বিনিময়মূল্য ছিল ১৮ লাখ ৬৫ হাজার। এক সপ্তাহেরও কম সময়ে দেশটির মুদ্রার মান কমেছে ৭ শতাংশের বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক চাপ, তেলের বাজার ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথে নানা বাধার কারণে ইরানে ডলার ও সোনার চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মুদ্রার ওপর।
গত ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকে নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা কোনো নতুন চুক্তি বা ছাড় ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর তেহরানের সমুদ্রবন্দর ও তেল খাতের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ এবং আগের কিছু ছাড় বাতিল করেছে ওয়াশিংটন।
এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অবরোধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
ইরানি রিয়ালের দরপতনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় খাদ্য, ওষুধ ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দামও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।
এদিকে নির্বাসিত সাবেক ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি রিয়ালের এই নজিরবিহীন দরপতনকে কেন্দ্র করে দেশটির সরকারের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের অর্থনৈতিক সংকট আরও কতটা গভীর হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরানের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
সূত্র: গালফ নিউজ