এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন শুরু, মানতে হবে ৮ গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বদলির আবেদন করতে শিক্ষকদের নির্ধারিত শর্ত ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মাউশির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইনে বদলির আবেদন করা যাবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত।

মাউশি জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা-২০২৩ (সংশোধিত) অনুযায়ী টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বদলির জন্য আগ্রহী শিক্ষকরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে মোবাইলে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আবেদন করতে পারবেন।

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত সব শিক্ষক—প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রদর্শক ও ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ—বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে বদলি হলে কোনো ধরনের টিএ/ডিএ পাবেন না শিক্ষকরা।

১. সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন:একজন শিক্ষক পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষ বদলিভিত্তিক পদায়নের আদেশ জারি করবে।

২. নিজ জেলা অগ্রাধিকার:
শিক্ষককে চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে হবে। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে।

৩. স্বামী বা স্ত্রীর জেলা ও কর্মস্থল:স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা কর্মস্থলের জেলায় বদলির জন্য আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীকে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত হতে হবে। বদলি সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দেওয়া তথ্য ভুল হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও আবেদনকারী শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

৪. চাকরির মেয়াদ দুই বছর:চাকরিতে প্রথম যোগদানের পর অন্তত দুই বছর পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

৫. নতুন কর্মস্থলেও দুই বছর:বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর চাকরি করার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করা যাবে।

৬. ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল:অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যসংবলিত আবেদন বিবেচনা করা হবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

৭. বদলি অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না:বদলির আবেদন করলেই বদলি পাওয়া যাবে—এমন কোনো অধিকার দাবি করা যাবে না।

৮. কয়েকটি ক্ষেত্রে অযোগ্যতা:কোনো শিক্ষকের বেতন বন্ধ (স্টপ পেমেন্ট), সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

মাউশি জানিয়েছে, নির্ধারিত শর্ত ও যোগ্যতা পূরণ না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। তাই আবেদন করার আগে প্রত্যেক শিক্ষককে নিজের তথ্য ও যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

Related posts

না জানিয়ে আচমকা মন্ত্রীর আগমন পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ

৬৫ হাজার ৫১৭ কোটি টাকার ১৬ প্রকল্প নিয়ে একনেক সভা শুরু

চার দিনের সরকারি সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান