ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য স্থগিত, অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের

ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বা সাজানো ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে এমন উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক আদান-প্রদান স্থগিত থাকবে।

এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি তাদের জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি জলসীমার ভেতরে গিয়ে পড়েছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ঘটনাটিকে সাজানো অপারেশন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এমন দাবি তোলা বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা।

বাঘেই তেহরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ না তুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড’ তদন্তের আহ্বান জানান।

মার্কিন-ইরানি শান্তি আলোচনার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ও আমিরাতের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো।

সাবেক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিত মনে করেন, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা ইরানের জন্য আমিরাতের এই নিষেধাজ্ঞা বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে।

দুবাই ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে গেলে তেহরানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Related posts

না জানিয়ে আচমকা মন্ত্রীর আগমন পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ

৬৫ হাজার ৫১৭ কোটি টাকার ১৬ প্রকল্প নিয়ে একনেক সভা শুরু

চার দিনের সরকারি সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান