Home আজকের মিল্লাত এক সদস্যের আপত্তিতে টাটা গ্রুপে ধস, ২৬ হাজার ৮০০ কোটি রুপি বাজারমূল্য উধাও

এক সদস্যের আপত্তিতে টাটা গ্রুপে ধস, ২৬ হাজার ৮০০ কোটি রুপি বাজারমূল্য উধাও

A+A-
Reset

টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে এন চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে একজন সদস্যের আপত্তির পর তাঁর সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় শেয়ারবাজারে টাটা গ্রুপের কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য ২৬ হাজার ৮০০ কোটি রুপিরও বেশি কমেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চন্দ্রশেখরনের বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রয়েছে। তবে নতুন করে পাঁচ বছরের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে বোর্ডের একজন সদস্য সমর্থন না দেওয়ায় তিনি আর পুনর্নিয়োগের জন্য চেষ্টা করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাসায়নিক, মোটরযান, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ, ভোক্তা পণ্য ও আতিথেয়তাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে টাটা গ্রুপের। চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার ঘোষণার পর গ্রুপটির তালিকাভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ব্যাপক দরপতন দেখা দেয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) শেয়ারে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ছাড়া তেজাস নেটওয়ার্কসের শেয়ার ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ, টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস ২ দশমিক ৮ শতাংশ, টাটা এলেক্সি ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ, টাটা স্টিল ২ দশমিক ০২ শতাংশ এবং টাটা কমিউনিকেশনস ১ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে।

এদিকে টাটা টেলিসার্ভিসেসের শেয়ার ১ দশমিক ২৪ শতাংশ, টাটা পাওয়ার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ, টাটা ইনভেস্টমেন্টস ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ, ইন্ডিয়ান হোটেলস ১ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ট্রেন্টের শেয়ার দশমিক ৫৫ শতাংশ কমেছে।

তবে টাটা গ্রুপের সব কোম্পানির শেয়ারে দরপতন হয়নি। টাটা কেমিক্যালসের শেয়ার দশমিক ৯১ শতাংশ এবং টাটা ক্যাপিটাল ও ভোল্টাসের শেয়ার যথাক্রমে দশমিক ৩৮ শতাংশ ও দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে।

এক বিবৃতিতে এন চন্দ্রশেখরন জানান, বোর্ডের একজন সদস্য তাঁর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাবে সমর্থন না দেওয়ায় তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি জানান, স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট ও স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। পরে টাটা সন্সের নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি ও বোর্ডও বিষয়টি অনুমোদন করে। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

তবে বোর্ডের একজন সদস্যের অসম্মতির কারণে প্রস্তাবটি পাসের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় চন্দ্রশেখরন আর পুনর্নিয়োগের চেষ্টা না করার সিদ্ধান্ত নেন।

চন্দ্রশেখরন বলেন, টাটা সন্স একটি বড় প্রতিষ্ঠান এবং বর্তমানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির পর প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব কে দেবেন, সে বিষয়ে বোর্ড ও কর্মীদের মধ্যে দ্রুত স্পষ্টতা তৈরি করা জরুরি।

প্রায় ৪০ বছর টাটা গ্রুপে কাজ করেছেন এন চন্দ্রশেখরন। ১৯৮৭ সালে শিক্ষানবিস হিসেবে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসে (টিসিএস) যোগ দেন তিনি। পরে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হন।

২০১৭ সালে টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন চন্দ্রশেখরন। দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার পর এবার তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

চন্দ্রশেখরনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর টাটা গ্রুপের শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের পর টাটা সন্সের নেতৃত্বে কে আসছেন, তা নিয়েও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা