দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরে বছরের পর বছর আটকে আছে হাজার কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য। কাস্টমসের ধীরগতির নিলামপ্রক্রিয়া ও আইনি জটিলতায় প্রায় ১৫ বছর ধরে বন্দরে পড়ে আছে হাজারো কনটেইনার। এতে একদিকে মূল্যবান পণ্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পণ্য ব্যবস্থাপনা। একই সঙ্গে বিদেশি শিপিং লাইন ও সরকার—উভয়ই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। জট নিরসনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কাস্টমসকে এ পর্যন্ত ৮০ বার চিঠি দিলেও সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বছরে ৩৪ লাখের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে নিলামের অপেক্ষায় রয়েছে দুই হাজার ৭৪৮টি ২০ ফুট এবং ছয় হাজার ৬১৮টি ৪০ ফুট কনটেইনার। বন্দরের ইয়ার্ড ও শেডের বড় একটি অংশজুড়ে এসব কনটেইনার পড়ে থাকায় নতুন পণ্য সংরক্ষণে চাপ বাড়ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক সদস্য বলেন, বন্দরের মোট ধারণক্ষমতার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা সব সময় নিলামযোগ্য কনটেইনার দখল করে থাকে। এগুলো দ্রুত সরানো গেলে বন্দরের সক্ষমতা ও কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, নিলামের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে দুই হাজার ৬৯৭টি কনটেইনার। এর মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে মাত্র এক হাজার ৬১৯টি। ২০২৫ সালে ৪৯৩টি এবং চলতি বছরে আরও ৪৯৫টি কনটেইনার নিলামের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। অর্থাৎ দেড় বছরে ৯৮৮টি কনটেইনার সরানো গেলেও একই সময়ে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও কয়েক শ কনটেইনার। ফলে জট কার্যত কমেনি।
ব্যবসায়ীদের হিসাবে, একটি ২০ ফুট কনটেইনারের দাম প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন ডলার, ৪০ ফুট কনটেইনারের দাম প্রায় পাঁচ হাজার ডলার। আর একটি রেফার (হিমায়িত) কনটেইনারের মূল্য অন্তত ৩০ হাজার ডলার। ফলে বছরের পর বছর কনটেইনার আটকে থাকায় বিদেশি শিপিং লাইনগুলোর ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে।