রামিসা হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিতের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার শিকার শিশু রামিসার বাবার কাঁধে হাত রেখে ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে রামিসা পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

এ সময় শোকাহত রামিসার মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অন্যায়ের সাথে যে জড়িত, তার বিচার আমরা আগে করতে চাই। এক সন্তানকে আল্লাহপাক নিয়ে গেছেন, আরেক সন্তান আপনাদের কাছে আছেন। ওর দিকে তাকিয়ে আপনাদেরকে শক্ত থাকতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমানসহ আরও অনেকে।

এদিকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো দেশ ক্ষোভে ফুঁসছে। নৃশংস এই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি উঠেছে। বর্বরোচিত এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে পল্লবী থানা ঘেরাও করেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া রাতে কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।

এর মধ্যে নোয়াখালীতে জড়িতদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিশু রামিসার গ্রামের বাড়ি শেরপুরেও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রাজধানীতেও এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ। সমাবেশ থেকে বক্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান।

গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। আদালতকে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার রামিসাকে নিজেদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। ধর্ষণের শিকার হয়ে শিশু রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই সময় রামিসার মা নিজের সন্তানের খোঁজে সোহেলদের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে গ্রেপ্তার সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে।

জবানবন্দিতে সোহেল আরও জানায়, এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়। একই সঙ্গে দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহটি বাথরুম থেকে শোয়ার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং পুরো ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই ঘরে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। অপরাধ সংঘটনের আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল জানিয়ে সোহেল দাবি করে, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।

বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোহেল রানাকে হাজতখানা থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ অভিযুক্তকে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হলে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে পুলিশের অপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Related posts

৬৫ হাজার ৫১৭ কোটি টাকার ১৬ প্রকল্প নিয়ে একনেক সভা শুরু

চার দিনের সরকারি সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান

সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করার তাগিদ