Home রাজনীতি সিটি করপোরেশন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যদের সরিয়ে দলীয় লোক বসানো হয়েছে: জামায়াত

সিটি করপোরেশন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যদের সরিয়ে দলীয় লোক বসানো হয়েছে: জামায়াত

A+A-
Reset

সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার দলীয় লোকদের পদায়ন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে দলীয় লোকদের বসানো হচ্ছে, যা জনগণের মতামত ও জুলাইয়ের স্পিরিটের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম।

আব্দুল হালিম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদে অন্যায়ভাবে প্রশাসক নিয়োগের যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আমরা মনে করি যে এটা গণতান্ত্রিক রীতিকে অমান্য করে সরকার এই কাজটা করেছে।’

আব্দুল হালিম জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় তাদের মনে হয়েছিল, যে খুব শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল যে স্থানীয় নির্বাচন স্বাভাবিকভাবে হবে। কিন্তু সরকার স্থানীয় নির্বাচনের দিকে না গিয়ে ২২ তারিখে ছয়টি এবং ১৪ তারিখে পাঁচটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।

এই প্রশাসক কারা—প্রশ্ন রেখে জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি বলেন, ‘যারা তাদের (সরকার) দলীয় নেতা। যারা নির্বাচনে হেরেছেন। যেমন শফিকুল ইসলাম মিল্টন তিনি ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনে হেরেছেন, তাকে প্রশাসক নিয়োগ করা হলো। এরপর খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, উনিও নির্বাচনে হেরেছেন। আমরা ব্যক্তিকে টার্গেট করে কথা বলছি না। আমাদের কথা হচ্ছে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ওপর সরকার আঘাত করেছে।’

গতকাল সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে উল্লেখ করে আব্দুল হালিম বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাচাই-বাছাই করে যোগ্য লোকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। সময়ের পরিবর্তনে এসব পদে পরিবর্তন হবে, এ ক্ষেত্রে আমাদের ভিন্নমত নাই। কিন্তু পদত্যাগ করিয়ে দলীয় লোকদের বসাতে হবে কেন?’

যিনি গত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ক্যাম্পেইনিং করেছেন, পোস্টার করেছেন, দলীয় নেতাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন—তাকেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ হবে এটা আমরা চাই। যারা দলের প্রতিনিধিত্ব করেছে, যারা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচারও করেছে, এ সমস্ত লোকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের এই সম্মানিত আসনে বসিয়ে সরকার জুলাই স্পিরিটের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

আব্দুল হালিম বলেন, ‘গত ১৭-১৮ বছর যে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত বিষয়গুলো আমরা তুলে ধরেছিলাম, সেটার একটা হচ্ছে যে জনগণের মতামতকে তোয়াক্কা না করে দলীয় চিন্তায়-চেতনায় দলীয় লোক বসানোর জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। সরকার এই নিয়োগ দিয়ে আমরা মনে করি যে জনগণের মতামত এবং জুলাইয়ের যে স্পিরিট এটাকে অবজ্ঞা-প্রদর্শন করেছে।’

জামায়াত নেতা বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে যেটা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে আমরা সবাই মিলে আন্দোলন করেছি—এই জাতীয় কাজ থেকে বর্তমান এই সরকার বিরত থাকুক এই আহ্বান জানাই। সামনে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সতর্কভাবে ভূমিকা পালন করবেন এবং এসব নিয়োগের ক্ষেত্র, যেটা জনগণের মতের বিপরীত, তা বাতিল করে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।’

জামায়াত নেতা বলেন, ‘আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করব। আমরা আশা করি, ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছে তারা সাক্ষী আছে। যেসব কারণে ফ্যাসিস্টদের অবস্থা ধীরে ধীরে পালিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, সে ক্ষেত্রে বিএনপিও সতর্ক থাকবে। আমরা প্রতিবাদ করছি, সামনে আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচি, প্রতিরোধ কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দেব।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা