এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি ভারত আর পাকিস্তান। দুই দলের লড়াইয়ের মাঝেও আছে আরেকটি লড়াই-শাহিন শাহ আফ্রিদি বনাম অভিষেক শর্মা।
ম্যাচটির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হয়ে উঠেছে দুই সমবয়সী তারকার দ্বৈরথ। দুজনেরই বয়স ২৫ বছর। যদিও অভিজ্ঞতায় শাহিন আফ্রিদি এগিয়ে, কিন্তু ফর্মের বিচারে এখন এগিয়ে রাখতে হচ্ছে অভিষেককে।
ভারতের ইনফর্ম ওপেনার অভিষেক এবারের আসরে রীতিমতো আগুন ঝরাচ্ছেন। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা তিন হাফসেঞ্চুরি করে প্রতিপক্ষকে শুরুতেই চাপে ফেলে দিয়েছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, এর আগের তিন ম্যাচেও তিনি ত্রিশের ঘরে রান করে নিজের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেছেন। আগের ‘হিট অ্যান্ড মিস’ ধাঁচ থেকে বেরিয়ে অভিষেক এখন দলে ভারসাম্য এনে দিচ্ছেন পাওয়ারপ্লেতেই।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের গতিতারকা শাহিন আফ্রিদি যদিও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে, তবে এবারের আসরে ভারতের বিপক্ষে নিজের সেরা রূপ দেখাতে পারেননি। দুই ম্যাচে ৫.৫ ওভার বল করে ৬৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থেকেছেন তিনি। অথচ বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে নিয়েছেন ৬ উইকেট।
অভিষেকের সামনে আফ্রিদির সেই ‘নতুন বলের জাদু’ কার্যকর হচ্ছে না। ১৪ সেপ্টেম্বরের প্রথম দেখায় অভিষেক প্রথম বলেই আফ্রিদিকে ছক্কা মেরেছিলেন। মাত্র ১৩ বলে ৩১ রান করে ম্যাচটি একাই বদলে দেন। দ্বিতীয় দেখাতেও আফ্রিদিকে আগ্রাসী মেজাজে খেলেন অভিষেক, একটি বাউন্সারকে ডিপ ফাইন লেগ দিয়ে পাঠান গ্যালারিতে।
তবে আফ্রিদি নিজের দিনে যে কারো সামনে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। এর আগে ২০২১ সালের বিশ্বকাপে এই দুবাইতেই প্রথম ওভারে রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুলকে ফিরিয়ে ভারতকে চেপে ধরেছিলেন এই পেসার। আবার এমন ছন্দে ফিরলে, বড় ম্যাচে তিনি পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।
ভারতের ফাস্ট বোলিং কোচ মরনে মরকেলও আফ্রিদিকে নিয়ে সতর্ক। অভিষেক-আফ্রিদির দ্বৈরথ নিয়ে মরকেল বলছেন, ‘শাহিন নিঃসন্দেহে আক্রমণাত্মক বোলার, যে প্রতিপক্ষকে শুরুতেই ধসিয়ে দিতে চায়। আর অভিষেক কখনো পেছনে ফিরতে রাজি নয়। এই দ্বৈরথ দেখলে সব ক্রিকেটপ্রেমীই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে থাকেন, এটাই তো ক্রিকেটের সৌন্দর্য।’
রোববারের ফাইনালে অভিষেক-আফ্রিদির লড়াই কেমন হয়, সেটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ভাগ্য।