হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে গত ৬০ দিনে অন্তত ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে বিকল্প পথে যেতে হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে ‘স্টিল ওয়াল অবরোধ’ পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই অবরোধ অতিক্রম করতে পারেনি বলেও দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন সেনারা এই অভিযানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করছে।

হরমুজে কমেছে জাহাজ চলাচল

এদিকে চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মাত্র সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ১১টি। আর গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফের বন্ধ হরমুজ প্রণালি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর সাময়িকভাবে প্রণালিটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছিল। তবে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর আবারও জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি রয়েছে। ইরানের দাবি, প্রণালিটি এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালি ‘খোলা ও সচল’ রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ও দামের ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।