Home আজকের মিল্লাত ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের মহাসমাবেশ

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের মহাসমাবেশ

A+A-
Reset

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন ও অনিয়মের অভিযোগে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে এ সমাবেশ আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।

টাইমস নাউয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমাবেশে ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি আশা করছেন বিরোধী নেতারা। তবে দিল্লি পুলিশের ধারণা, এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চার হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেসের (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকাকে ১৪টি জোনে ভাগ করে ২০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে এই সমাবেশের। এতে রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি ছাত্র সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নিতে পারেন। দুপুর ১২টায় মিন্টো রোড-কনট প্লেস ক্রসিং থেকে ‘চলো দিল্লি’ নামে একটি প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়ে রামলীলা ময়দানে যাওয়ার কথা রয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন থেকে শীর্ষ নেতারা খোলা বাসে সমাবেশস্থলে যাবেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। রাজধানীতে ধারাবাহিক প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ২৭০টি সিএপিএফ কোম্পানির মোতায়েনের মেয়াদ ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রামলীলা ময়দানে চেয়ার ও ব্যারিকেড স্থাপনের পর ধারণক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার মানুষের মধ্যে থাকতে পারে। সমাবেশ চলাকালে যান চলাচল ও জরুরি সেবাও সচল রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এলএনজেপি হাসপাতাল ও জিবি পান্ত হাসপাতালে যাতায়াতকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫০ জন অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজকদের স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করতে পারে—এমন বক্তব্য পরিহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে লোকসভার সাবেক স্পিকার মীরা কুমারের সভাপতিত্বে একটি প্রতীকী ‘গণ অভিশংসন’ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা হাত তুলে সর্বসম্মতিক্রমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের এই কর্মসূচি ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: টাইমস নাউ

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা