Home সারাদেশ কাফনের কাপড় দিয়ে রাস্তায় শুয়ে থাকার পর ও শেষ রক্ষা হয়নি ৩ ইটভাটার

কাফনের কাপড় দিয়ে রাস্তায় শুয়ে থাকার পর ও শেষ রক্ষা হয়নি ৩ ইটভাটার

A+A-
Reset

দিদারুল ইসলাম (ঈদগাঁও) কক্সবাজার প্রতিনিধি: চকরিয়ায় কাফনের কাপড় দিয়ে রাস্তায় শুয়ে থাকার পর ও শেষ রক্ষা হয়নি ৩ ইটভাটার।
ওই ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
গুড়িয়ে দিয়া ইট ভাটা গুলো হচ্ছে উপজেলার মানিকপুরে এএমবি-১, এএমবি-২, এএমবি-৩ নামের ঝিকঝাক চিমনির ৩ টি ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর ও প্রশাসনের একটি টিম।

(১৭ নভেম্বর) সকাল দশটার দিকে এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক জমির উদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রেজাউল করিম, বান্দরবান পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ র‍্যাব পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। এতে ওই তিনটি ইটভাটার প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইট ভাটার মালিকরা।

মানিকপুরের অভিযান শেষে প্রশাসনের ওই অভিযান টিমের সদস্যরা পাশের লামা উপজেলার ফাইতং এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে আসলে সেখানে অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান ইটভাটার শ্রমিকরা। দুপুর বারোটার দিকে শত-শত শ্রমিক তাদের কর্মসংস্থান ধ্বংস না করার দাবিতে কাফনের কাপড় পড়ে সড়কে শুয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে মালিক শ্রমিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে পাহাড়ি সড়ক পথে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে অভিযান টিমের সদস্যরা। এ অবস্থায় অভিযানে অংশ নেওয়া পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গাড়ি বহর থেমে যায়। পরে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে প্রশাসন দুইদিনের জন্য ফাইতংয়ে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত ঘোষণা করে চলে যায়।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার মানিকপুরে পাঁচটি ও পাশের ফাইতং ইউনিয়নে প্রায় ২৫ টিরও বেশি ইটভাটায় ২০ হাজারের অধিক শ্রমিক দীর্ঘ দুইযুগ ধরে শ্রমের বিনিময়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন ।
ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছে, চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর ও লামার ফাইতংয়ের ইটভাটার উৎপাদিত ইট দিয়ে দীর্ঘ দুইযুগের বেশি সময় ধরে চকরিয়া উপজেলার পাশাপাশি পাশের পেকুয়া, মহেশখালী উপজেলার মানুষের ঘরবাড়ি দোকানপাট তৈরি এবং সরকারি বেসরকারি সবধরনের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এখন এই ইটভাটা গুলো উচ্ছেদের নামে ধ্বংস করা হলে সেখানে কর্মরত অন্তত ২০ হাজার শ্রমজীবি মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়বে।

পাশাপাশি ইটভাটায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে ইটের অভাবে মানুষের ঘরবাড়ি দোকানপাট নির্মাণ এবং সরকারি বেসরকারি উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
এ অবস্থায় চকরিয়ার মানিকপুর ও ফাইতংয়ের হাজার হাজার ইটভাটা শ্রমিকরা তাদের কর্মসংস্থান ধ্বংসের বিরুদ্ধে এখন থেকে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলে রোববারের মানববন্ধন বিক্ষোভ কাফনের কাপড় করে জানানো প্রতিবাদ কর্মসুচি থেকে ঘোষণা দেন।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা