Home আজকের মিল্লাত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলা ও বলসোনারোর ছেলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলা ও বলসোনারোর ছেলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

A+A-
Reset

লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দেশজুড়ে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থি নেতা ফ্লাভিও বলসোনারো।

বিবিসির এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনে জয়ী হলে লুলার সামনে আরেক দফায় ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে, অপরাধ দমন, কর হ্রাস, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি ব্রাজিলের সাবেক ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে জাইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় গৃহবন্দী রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে বাবাকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ফ্লাভিও।

এর আগে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে ফ্লাভিও বলসোনারো এগিয়ে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ওই সাফল্যকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অনেক বড় অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকা কোনো প্রার্থীর দ্বিতীয় দফায় জয়ী হওয়ার নজির নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। ফলে লুলা ব্যবধান ঘুচিয়ে জয়ী হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

ভোটের আগের দিন মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তেতে সমাবেশ করেন ফ্লাভিও। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই অঙ্গরাজ্যের ফলাফল ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। সমর্থকদের উদ্দেশে ফ্লাভিও বলেন, এই নির্বাচন আগামী ৩০ থেকে ৪০ বছরের জন্য ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

রিও ডি জেনেইরোতে তাঁর সমর্থকেরা জানান, দীর্ঘদিনের বামপন্থি শাসনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট থেকে দেশকে বের করে আনাই ফ্লাভিওর প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি অপরাধ ও মাদকচক্র দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে লুলার নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টির অতীতের দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগও নির্বাচনী প্রচারে তুলে ধরছেন ফ্লাভিও।

অন্যদিকে, প্রথম দফায় বিপুলসংখ্যক ভোটার ভোট দিতে না আসায় দ্বিতীয় দফায় ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে লুলার শিবির। রিও ডি জেনেইরোর কোপাকাবানা সৈকতে আয়োজিত এক সমাবেশে লুলা নির্বাচনকে দেশের ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ এমন একজন নেতাকে বেছে নেবে, যিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবেন এবং কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য মেনে নেবেন না। নির্বাচনে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে লুলার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

লুলার দল এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই’ হিসেবেও তুলে ধরছে। দলটির দাবি, সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলায় দণ্ডিত জাইর বলসোনারোর রাজনৈতিক আদর্শ ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

নির্বাচনের ফলাফল ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, অর্থনৈতিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, অপরাধ দমন এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা