Home আজকের মিল্লাত কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১০; ফায়ার লাইসেন্স ছিল না

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১০; ফায়ার লাইসেন্স ছিল না

A+A-
Reset

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি :

কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক এলাকায় বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। আগুনে রিসোর্টটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন এই রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তার কোনো লাইসেন্স ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আগেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অন্তত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তীব্র বাতাসের কারণে কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোস পাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু রিসোর্টটিতে এসব ব্যবস্থার কিছুই ছিল না। এমনকি ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। মাত্র সাত-আট মাস আগে রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল। জায়গাটির মালিকানা নিয়েও বিরোধ ছিল বলে জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুপুর ১টার পর তিনতলার দুটি শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের শরীর এতটাই পুড়ে গেছে যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানিয়েছেন, পরে উদ্ধার হওয়া চারজনের মরদেহের অবশিষ্টাংশ পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রাজধানীর বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫) রয়েছেন।

আহত ছয়জন হলেন চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আহত ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। অপর একজন পড়ে গিয়ে আহত হন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আগুন থেকে বেঁচে ফেরা পর্যটক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘হঠাৎ দরজা খুলে দেখি, ধোঁয়ায় কিছুই দেখা যাচ্ছে না। তাৎক্ষণিক আমি ও আমার স্ত্রী পাশের নালায় লাফ দিয়ে বের হয়ে আসি।’

তিনি জানান, রিসোর্টটিতে ২৫ থেকে ৩০ জন পর্যটক থাকতে পারেন। ঢাকার মিরপুর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে এসে তাঁরা সেখানে উঠেছিলেন। তাঁদের আরও দুই দিন রিসোর্টটিতে থাকার কথা ছিল।

রিসোর্টের ইনচার্জ মো. সুমন জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তাঁরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। তাঁর ভাষ্য, ফ্রিজে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। এরই মধ্যে রিসোর্টের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে।

তবে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এমএ মান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করেছেন। আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহত সবাই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, গত জুন মাসেও রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে সেই সতর্কতার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা