Home আজকের মিল্লাত দুই দশকের পর ইরাক ছাড়ল শেষ মার্কিন সেনারা

দুই দশকের পর ইরাক ছাড়ল শেষ মার্কিন সেনারা

A+A-
Reset

দুই দশকের বেশি সময়ের সামরিক উপস্থিতির পর ইরাক থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। শেষ মার্কিন সেনারা মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইরাক ত্যাগ করেন।

এ উপলক্ষে ইরাকে ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ পালনের পাশাপাশি চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ইরাকি সরকারের ভাষ্য, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দেশটি নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করল। তবে সেনা প্রত্যাহারের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।

ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার এক দিন আগেই শেষ মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। এখন দেশটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। ইরাকি বাহিনীই দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সঙ্গে ইরাকের একটি সমঝোতার মাধ্যমে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। সে সময় ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা ছিল। গত বছর দেশটির অধিকাংশ ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হলেও আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে কিছু মার্কিন সেনা অবস্থান করছিল।

২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৭ সালে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি হয়েছিল। ২০১১ সালে মার্কিন বাহিনী ইরাক থেকে প্রত্যাহার করা হলেও ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস)বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আবারও সেনা মোতায়েন করা হয়।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন একটি দিনের সূচনা হয়েছে। তার ভাষ্য, দেশটির পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্বাগত জানিয়েছে। ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কমান্ডার এটিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ফালুজা অঞ্চলের একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার ফলে যে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, তা ইরাকিদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

ইরাকে ইরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পাইপলাইনে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু বিশ্লেষক।

রয়টার্সকে ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিদায়ের ফলে কৌশলগতভাবে ইরান লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার মতে, বহু বছর ধরে ইরাকের নিরাপত্তা কাঠামোয় তেহরানের প্রভাবের বিপরীতে যে ভারসাম্য তৈরি হয়েছিল, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে তা পরিবর্তিত হতে পারে।

তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ শুধু ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরেই নয়; ইসলামিক স্টেটের অবশিষ্ট সদস্যরাও সুযোগ নিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা