Home আজকের মিল্লাত দলীয় পরিচয় নয়, অপরাধী হিসেবে ব্যবস্থা: আইজিপি

দলীয় পরিচয় নয়, অপরাধী হিসেবে ব্যবস্থা: আইজিপি

A+A-
Reset

দলীয় পরিচয়, প্রভাব কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ে অপরাধীরা যেন ছাড় না পায়—মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, অপরাধীর ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই; অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী।

একই সঙ্গে কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি।

আগস্ট মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ, মামলা, তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের করণীয় নির্ধারণ করা হয়।

আইজিপির নির্দেশনায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে অপরাধীর পরিচয়ের চেয়ে অপরাধের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পরিচয় বা প্রভাব যেন বিবেচনায় না আসে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু ঘটনাস্থলে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই নয়, তাদের পেছনে কারা রয়েছে, সে তথ্যও সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভায় কিশোর গ্যাং নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান। তিনি কিশোর গ্যাং সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এসব চক্রের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।

মাদকের বিরুদ্ধেও পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন আইজিপি। মাদক ব্যবসা ও বিস্তার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাকে অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সামনেই দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে দেশের প্রতিটি পুলিশ ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকার জন্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আইজিপি।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুলিশের দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি ও পেশাদারিত্বের বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকরভাবে ব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সভায় আগস্ট মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসহ ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এ ছাড়া মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সাজার হার নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রান্তে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা